Showing posts with label বাংলা কবিতা. Show all posts
Showing posts with label বাংলা কবিতা. Show all posts

Monday, 25 May 2015

valobasa

যখন ভালোবাসা থাকে,
তখন হয়তো
যোগ্যতা থাকে না।
যোগ্যতার অভাবে অনেক
ভালোবাসা
বিলুপ্ত হয়ে যায়।
আবার যখন যোগ্যতা হয়
তখন হয়তো
ভালোবাসার মত মন থাকে না।
কারণ,
মনটা ততোদিনে কষ্ট
পেতে পেতে এক সময় নষ্ট হয়ে
যায়।
Susmita Adhikari's photo.

Thursday, 14 May 2015

খুব মিস করছি তোমায়

খুব ভালবাসি তোমায় ,
তাই তোমার কথা
মনে পরলেই চোখ দিয়ে মনের
অজান্তেই
জল বেড়িয়ে পড়ে।
অনেক ভুলার চেষ্টা করেছি
তোমায়, কিন্তু
তোমার প্রতি আমার ভালবাসা
সমস্ত
চেষ্টা কে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
আমি তোমাদের মতও ধণি না,
আমার এই
ছোট্ট ঘরে আসলে তোমার শুধু
কষ্টই হবে,
আর আমি তোমার কষ্ট কখনো
সয্য
করতে পারব না। তাই তোমার
চোখে
আমাকে খারাপ বানিয়ে তোমার
জীবন থেকে
আমি দূরে সরে গেলাম।
দূর থেকেই না হয়
সারাজীবন তোমায় ভালবেসে গেলাম।
আমি চাই তুমি সুখে থাকো ,ভালো থাকো।
তোমার সুখ ই তো আমার সুখ।
"খুব মিস করছি তোমায় ময়না পাখি"

Saturday, 21 March 2015

ভালবাসা মানে কি ?

ভালবাসা মানে কি ?
একে অপরের হাতে হাত রাখা ,
নাকি দূর থেকে তার চোখে চোখ রাখা ?

ভালবাসা মানে কি ?

একই পায়ের ছন্দে পাশাপাশি এগিয়ে চলা .
নাকি , অফুরন্ত না বলা কথা গুলো বলে চলা ?

ভালবাসা মানে কি ?
গভীর সুমুদ্রে মিশে যাওয়া আকাশ কে দেখা ,
নাকি , একেঅপরের চোখে নিহিত ভালবাসা কে দেখা ?

ভালবাসা মানে কি ?
লিখতে পড়তে শুধু তার ই কথা মনে করা .
নাকি , বইয়ের পাতায় শুধু তার ছবি ভেসে উঠছে মনে করা ?

ভালবাসা মানে কি ?
সমস্ত কাজকে ভুলে যাওয়া ,
নাকি , প্রতিটা মুহুর্তে শুধু তাকেই মনের মাঝে খুঁজে পাওয়া ?

ভালবাসা মানে কি ?
সময়ের মুল্য দেওয়া .
নাকি , তাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে মূল্যবান সময় কে নষ্ট হতে দেয়া ?

ভালবাসা মানে কি ?
নিজের সমস্ত ইচ্ছা কে দমিয়ে দেওয়া .
নাকি , তার সমস্ত ইচ্ছা কে গুরত্ব দেওয়া ?

ভালবাসা মানে কি ?
মিথ্যা কথার খনি আগলা করা ,
নাকি , মিথ্থা কথা কে রং চড়িয়ে সত্যি করা ?

ভালবাসা মানে কি ?
অন্ধকার রাস্তা ধরে পাসাপাসি হেটে চলা ,
নাকি , যা পাওয়া হয়নি এখনো ,তার জন্য প্রতিক্ষা করে চলা ?

ভালবাসা মানে কি ?
রঙিন প্রজাপ্রতি কে ইচ্ছামত কাছে পাওয়া .
নাকি , অধরা অন্য কারোর দিকে বারে বারে ছুটে যাওয়া ?

ভালবাসা মানে কি ?
মনের কোনো অজানা তৃষ্ণাকে মেটানো ,
নাকি , দুটি ঠোটের স্পর্শে তৃষ্ণা কে মেটানো ?

ভালবাসা মানে কি ?
কল্পনার আনন্দে ভেসে থাকা ,
নাকি , শরীরের স্পর্স আনন্দে মেতে থাকা ?

ভালবাসা মানে কি ?
দুটি শরীর এক হওয়ার টান ,
নাকি , প্রেম নিছক ই মনের দুরন্ত টান ?

ভালবাসা মানে কি ?
পৃথিবীর কিছু অদেখাকে দেখার আসা ,
নাকি , শুধু ই মনের ও চোখের নেশা??

 valo lagle ami add koro

যত টুকু ভালবেসেছ

যত টুকু ভালবেসেছ
তার চেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছ

যত টুকু বিশ্বাস করেছ

তার চেয়ে বেশি সন্দেহ

যত টুকু হাঁসিয়েছ

তার চেয়েও বেশি কাদিয়েছ

যত টুকু স্বপ্ন দেখিয়েছ
তার চেয়ে বেশি স্বপ্ন ভেঙ্গেছ

যত টুকু কাছে টেনেছ

তার চেয়েও বেশি দূরে ঠেলেছ!!

    thanks for photo

valo lagle ami add koro 
 

স্বপ্ন!

স্বপ্ন!

বুকটা চীরে যদি দেখানো যেত,
বুঝতে তুমি ওগো কত ভালোবাসি তোমায়,
স্বপ্নগুলো যদি দেখানো যেত
বুঝতে তুমি ওগো ভালোবাসা করে কয়,
জীবনটা দিয়ে যদি বোঝানো যেত
বুঝতে তুমি ওগো ভালোবাসা মিছে নয়।

তোমারই জীবন যদি সুখের হয় ওগো
সবকিছু মেনে নেব হৃদয়ে পাথর বেধে
তবুও আশায় থাকি তোমার
স্বপ্নরা ভেঙ্গে যায়, যাক না
হৃদয় আঙ্গিনা মরুভুমি হোক না
তুমি তো সুখি হবে এই মোর সাধনা।

আমিতো চলে যাবো দুরে বহুদুরে
স্বপ্নরা জড়াবে তোমারই আঁচলে
বেদনাকে সাথী করে, ভুলগুলো বুকে নিয়ে
কেটে যাবে জীবন আমার, অজানার প্রান্তে
সুখি হও তুমি এই মোর মনেতে।
 
 valo lagle ami add koro
 
 

স্মৃতি আজ স্মৃতি !


আমাকে ক্ষমা করে দিও তুমি, আমি তোমাকে মনে রাখতে পারিনি। আমার স্মৃতির উপর জমেছে সময়ের পলি। স্মৃতির নদীতে আজ পানি নেই, শুষ্ক চর জেগেছে তার বুকে। আমার পথ ছিল ভিন্ন, তাই তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি। তুমি যখন আমাকে বলেছিলে, “আমাদের ভুলে যাবে না তো।’ আমি তখন বিস্ময়ের সাথে বলেছিলাম, “তোমাকে কি আমি ভুলে যেতে পারি।” আমার দেয়া কথা আমি রাখতে পারিনি, ক্ষমা করে দিও তুমি আমাকে। কখনো স্মৃতির নদীতে কিছু বুদবুদ উঠে , মিলিয়ে যায় পরক্ষনেই। একসময়ের স্রোতস্বিনী নদী, আজ হয়ে উঠেছে স্থির এক চর। সময় হয়তো একদিন নদীর চিহ্নটুকু মুছে দিবে। আমার হয়তো মনে থাকবেনা, নদীতে ঢেউ ছিল, স্রোত ছিল, রূপালী মাছ ছিল। সময়ের বিবর্তনে আমি হারিয়ে ফেলেছি তোমাকে, ক্ষমা করে দিও তুমি আমাকে।
valo lagle ami add koro photo by

ঘৃনা !


কাকে ঘৃনা করব আমি? এই আমার অধ্যুষিত সমাজকে? আমার জাতিসত্ত্বাকে? চোখ হাতের মুঠোয় আবদ্ধ করে পথচলি রাস্তার অলিতে-গলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের চেটেখাওয়া দেখতে চাইনা আর ঘৃনা জন্মেগেছে নিজের রক্তের উপর এই রক্ত বেজন্মা পুরুষের যৌনক্ষুদা ওরা চেটে-চেটে নিয়েছে । এরা সৌজন্যতা বুঝেনা লালসা প্রদীপ্ত চোখে এরা দেখে সব সব ওরা নিজের করে নেবে রক্তের স্বাদ নিতে এদের কার্পন্যতা নেই। শুধু সত্যকে অন্ধকারে খুঁজে যাই ফুলের কাছে গিয়ে তাকে ঝরে যাবার আহ্বান করি কারন ঐফুলে পড়েছে কলঙ্কের হাত। বিশ্বচরাচরে সব আলো আজ মেকি পরশুরামের হাতে জননীর স্বর্গলোক এ ভুল পথ যাযাবরের দৃষ্টি নয় অঞ্জতার-অন্ধকার বাকরূদ্ধ আজ্ঞা পালন। ঞ্জানীর কাছে আমি যাইনা তাঁর সান্নিধ্যও পাবার আশা করিনা কারন সেও অধ্যুষিত সমাজের বেওয়ারিশ রক্তের বেজন্মা। নর্তকীর বাসরে আর যৌনপল্লিতে এখন সুখের স্বর্গ নামে যে স্বর্গে যাবার জন্য পুরুষ আজ মাতাল দু’এক ঢোঁক সুরায় দেহ টলেনা চাই সাথে কল্কির ধৌঁয়া। মগ্নতায় দু’চোখ জুড়ে আসে মন হারিয়ে যায় অদূর ঠিকানায় স্বপ্নদেখী আজ অন্নপাপের, স্বপ্নদেখী অযুত বৎসর অতলে যাওয়ার রংছটা বিলাষে জীবনখেলা সাঙ্গ করে নিজের গন্তব্যের পথে এগিয়ে যাবার।

Tuesday, 17 March 2015

আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে

আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে--
তুমি জান না, আমি তোমারে পেয়েছি অজানা সাধনে॥
সে সাধনায় মিশিয়া যায় বকুলগন্ধ,
সে সাধনায় মিলিয়া যায় কবির ছন্দ--
তুমি জান না, ঢেকে রেখেছি তোমার নাম
রঙিন ছায়ার আচ্ছাদনে॥
তোমার অরূপ মূর্তিখানি
ফাল্গুনের আলোতে বসাই আনি।
বাঁশরি বাজাই ললিত-বসন্তে, সুদূর দিগন্তে
সোনার আভায় কাঁপে তব উত্তরী
গানের তানের সে উন্মাদনে॥

আমি প্রান ভরে দেখে নেই তোমায়

আরেকটু কাছে সরে এসো
ভালো করে দেখে নেই তোমায়।
বহু দিনের লুকানো ইচ্ছে আমার
মনের সাধ মিটিয়ে আমি দেখতে চাই তোমায়।
খুব কাছে থেকে একদিন
তোমাকে দেখবো বলে
আমি কতো পূর্ণিমা অমাবস্যা
পার করে দিয়েছি নির্ঘুম,
কাটিয়েছি কতো অস্থির দিন রাত।
কতো দিন আমি মনে মনে ভেবেছি তোমায়
কতো কথা বলেছি অবিরাম।
কতো দিন আমার ভাবনায়
আমার স্বপ্ন গুলি ছুঁয়ে দিয়েছে তোমায়।
তোমার দিকে অপলক তাকিয়ে থেকেছি আমি
দেখেছি তোমার দুই চোখ জুড়ে
কোনও এক স্বপ্নের গাঢ় ছায়া
আমি সেই স্বপ্নময় চোখের দিকে
বিভোর হয়ে তাকিয়ে থেকেছি কতো।
এবার আমার স্বপ্নের তুমি
সত্যি হয়ে সামনে এসে দাঁড়াও একটি বার
আমি প্রান ভরে দেখে নেই তোমায়।

তুমি আমি আর স্বপ্নগুলো ...

বয়ে চলা নির্লিপ্ত সময়ের সাথে কিছু কথা ...
তোমার আমার মাঝের নিরবতার ব্যাকুলতা ...

অল্প কিছু চাওয়া, অল্প কিছু পাওয়া
তা নিয়েই স্বপ্ন , তা নিয়েই ভেবে চলা

তুমি আমি আর মাঝের লম্বা সময় দুরুত্ব
ক্ষনিকের কাছে আসার সেই অল্প একটু মুহুর্ত
একটুখানি ভালো আর একটুখানি বাসি
তাই নিয়েই দুজনা, আজ এতটা পাশাপাশি ...

দুরত্বের ব্যাকুলতার মাঝেও তুমি আমি কত কাছে ...
তুমি আমি আর মিষ্টি সেই মুহুর্ত, আজো চোখে ভাসে ...
কেন তুমি এত দূরে ...
কেন দেয়ালে ফুটে ওঠা ভালোবাসায় মন শুধু পোড়ে ...

আমি জানি তুমি আসবে ...
দিগন্তের ঐ নীলে চেপে হাওয়ার জলে ভাসবে ...
দক্ষিনের জানালা তাই রাখবো আমি খুলে ...
মেঘের টানে মনের বানে ... আসবে (তুমি) পালটা তুলে ...

কত কি ই না ভাবছি আমি তাইনা ...
দুষ্টু মেয়ে, কেন তোমার এত বায়না ...
কত শত হাজার ক্রোশ পাড়ি দিলে তবে মুক্তি ...
হাত না ছেড়ে পাথিক হতে কত না তোমার যুক্তি ...


তুমি দেখো আমি পারবো ...
প্রবল ঝড়েও শক্ত করে হাতটা ধরে রাখবো ...
প্রলয় আসুক, আসুক না ভয় ...
তোমায় নিয়ে করবো তা জয় ...
ফাকি দিয়ে সবকটা চোখ ... দুরের অহর্নিশে ...
তুমি আমি আর স্বপ্নগুলো, থাকবো মিলেমিশে ...

thanks _somewhereinblog

Saturday, 7 March 2015

খাই খাই

খাই খাই করো কেন, এসো বসো আহারে—
খাওয়াব আজব খাওয়া, ভোজ কয় যাহারে।
যত কিছু খাওয়া লেখে বাঙালির ভাষাতে,
জড় করে আনি সব— থাক সেই আশাতে।
ডাল ভাত তরকারি ফল-মূল শস্য,
আমিষ ও নিরামিষ, চর্ব্য ও চোষ্য,
রুটি লুচি, ভাজাভুজি, টক ঝাল মিষ্টি,
ময়রা ও পাচকের যত কিছু সৃষ্টি,
আর যাহা খায় লোকে স্বদেশে ও বিদেশে—
খুঁজে পেতে আনি খেতে— নয় বড়ো সিধে সে!
জল খায়, দুধ খায়, খায় যত পানীয়,
জ্যাঠাছেলে বিড়ি খায়, কান ধরে টানিয়ো।
ফল বিনা চিঁড়ে দৈ, ফলাহার হয় তা,
জলযোগে জল খাওয়া শুধু জল নয় তা।
ব্যাঙ খায় ফরাসিরা (খেতে নয় মন্দ),
বার্মার ‘ঙাপ্পি’তে বাপ্ রে কি গন্ধ!
মান্দ্রাজী ঝাল খেলে জ্বলে যায় কণ্ঠ,
জাপানেতে খায় নাকি ফড়িঙের ঘণ্ট!
আরশুলা মুখে দিয়ে সুখে খায় চীনারা,
কত কি যে খায় লোকে নাহি তার কিনারা।
দেখে শুনে চেয়ে খাও, যেটা চায় রসনা;
তা না হলে কলা খাও— চটো কেন? বসো না—
সবে হল খাওয়া শুরু, শোনো শোনো আরো খায়—
সুদ খায় মহাজনে, ঘুষ খায় দারোগায়।
বাবু যান হাওয়া খেতে চড়ে জুড়ি-গাড়িতে,
খাসা দেখ ‘খাপ্ খায়’ চাপ্‌কানে দাড়িতে।
তেলে জলে ‘মিশ খায়’, শুনেছ তা কেও কি?
যুদ্ধে যে গুলি খায় গুলিখোর সেও কি?
ডিঙি চড়ে স্রোতে প’ড়ে পাক খায় জেলেরা,
ভয় পেয়ে খাবি খায় পাঠশালে ছেলেরা;
বেত খেয়ে কাঁদে কেউ, কেউ শুধু গালি খায়,
কেউ খায় থতমত— তাও লিখি তালিকায়।
ভিখারিটা তাড়া খায়, ভিখ্ নাহি পায় রে—
‘দিন আনে দিন খায়’ কত লোক হায় রে।
হোঁচটের চোট্ খেয়ে খোকা ধরে কান্না
মা বলেন চুমু খেয়ে, ‘সেরে গেছে, আর না।’
ধমক বকুনি খেয়ে নয় যারা বাধ্য
কিলচড় লাথি ঘুঁষি হয় তার খাদ্য।
জুতো খায় গুঁতো খায়, চাবুক যে খায় রে,
তবু যদি নুন খায় সেও গুণ গায় রে।
গরমে বাতাস খাই, শীতে খাই হিম্‌সিম্,
পিছলে আছাড় খেয়ে মাথা করে ঝিম্‌ঝিম্।
কত যে মোচড় খায় বেহালার কানটা,
কানমলা খেলে তবে খোলে তার গানটা।
টোল খায় ঘটি বাটি, দোল খায় খোকারা,
ঘাব্‌ড়িয়ে ঘোল খায় পদে পদে বোকারা।
আকাশেতে কাৎ হ’য়ে গোঁৎ খায় ঘুড়িটা,
পালোয়ান খায় দেখ ডিগ্‌বাজি কুড়িটা।
ফুটবলে ঠেলা খাই, ভিড়ে খাই ধাক্কা,
কাশীতে প্রসাদ খেয়ে সাধু হই পাক্কা।
কথা শোনো, মাথা খাও, রোদ্দুরে যেও না—
আর যাহা খাও বাপু বিষমটি খেয়ো না।
‘ফেল্’ ক’রে মুখ খেয়ে কেঁদেছিলে সেবারে,
আদা-নুন খেয়ে লাগো পাশ করো এবারে।
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ো নাকো; যেয়ো নাকো ভড়্‌কে,
খাওয়াদাওয়া শেষ হলে বসে খাও খড়্‌কে।
এত খেয়ে তবু যদি নাহি ওঠে মনটা—
খাও তবে কচুপোড়া খাও তবে ঘণ্টা।

আয়রে আলো আয়

পুব গগনে রাত পোহাল,
ভোরের কোণে লাজুক আলো
নয়ন মেলে চায়।
আকাশতলে ঝলক জ্বলে,
মেঘের শিশু খেলার ছলে
আলোক মাখে গায়।।
সোনার আলো, রঙিন্‌ আলো,
স্বপ্নে আঁকা নবীন আলো-
আয়রে আলো আয়।
আয়রে নেমে আঁধার পরে,
পাষাণ কালো ধৌত ক’রে
আলোর ঝরণায়।।
ঘুম ভাঙান পাখির তানে
জাগ্‌রে আলো আকুল গানে
আকূল নীলিমায়।
আলসভরা আঁখির কোণে,
দুঃখ ভয়ে আঁধার মনে,
আয়রে আলো আয়।।

অক্ষমতা

এ যেন রে অভিশপ্ত প্রেতের পিপাসা —
সলিল রয়েছে প’ড়ে, শুধু দেহ নাই।
এ কেবল হৃদয়ের দুর্বল দুরাশা
সাধের বস্তুর মাঝে করে চাই – চাই।
দুটি চরণেতে বেঁধে ফুলের শৃঙ্খল
কেবল পথের পানে চেয়ে বসে থাকা!
মানবজীবন যেন সকলি নিষ্ফল —
বিশ্ব যেন চিত্রপট, আমি যেন আঁকা!
চিরদিন বুভুক্ষিত প্রাণহুতাশন
আমারে করিছে ছাই প্রতি পলে পলে,
মহত্ত্বের আশা শুধু ভারের মতন
আমারে ডুবায়ে দেয় জড়ত্বের তলে।
কোথা সংসারের কাজে জাগ্রত হৃদয়!
কোথা রে সাহস মোর অস্থিমজ্জাময়!

ব্যর্থ

যদি     প্রেম দিল না প্রাণে
কেন     ভোরের আকাশ ভরে দিলে     এমন গানে গানে?
কেন     তারার মালা গাঁথা,
কেন     ফুলের শয়ন পাতা,
কেন     দখিন হাওয়া গোপন কথা     জানায় কানে কানে?।
যদি     প্রেম দিলে না প্রাণে
কেন     আকাশ তবে এমন চাওয়া     চায় এ মুখের পানে?
তবে     ক্ষণে ক্ষণে কেন
আমার     হৃদয় পাগল হেন,
তরী     সেই সাগরে ভাসায় যাহার     কূল সে নাহি জানে?।

শা-জাহান

এ কথা জানিতে তুমি ভারত-ঈশ্বর শা-জাহান,
কালস্রোতে ভেসে যায় জীবন যৌবন ধনমান।
শুধু তব অন্তরবেদনা
চিরন্তন হয়ে থাক্, সম্রাটের ছিল এ সাধনা
রাজশক্তি বজ্রসুকঠিন

সে

আমাকে সে নিয়েছিলো ডেকে;
বলেছিলোঃ ‘এ নদীর জল
তোমার চোখের মত ম্লান বেতফল;
সব ক্লান্তি রক্তের থেকে
স্নিগ্ধ রাখছে পটভূমি;
এই নদী তুমি।’
‘এর নাম ধানসিঁড়ি বুঝি?’
মাছরাঙাদের বললাম;
গভীর মেয়েটি এসে দিয়েছিলো নাম।
আজো আমি মেয়েটিকে খুঁজি;
জলের অপার সিঁড়ি বেয়ে
কোথায় যে চলে গেছে মেয়ে।
সময়ের অবিরল শাদা আর কালো
বনানীর বুক থেকে এসে
মাছ আর মন আর মাছরাঙাদের ভালোবেসে
ঢের আগে নারী এক – তবু চোখ ঝলসানো আলো
ভালোবেসে ষোলো আনা নাগরিক যদি
না হয়ে বরং হতো ধানসিঁড়ি নদী।

অঙ্গের বাঁধনে বাঁধাপড়া আমার প্রাণ

অঙ্গের বাঁধনে বাঁধাপড়া আমার প্রাণ
আকস্মিক চেতনার নিবিড়তায়
চঞ্চল হয়ে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে,
তখন কোন্‌ কথা জানাতে তার এত অধৈর্য।
–যে কথা দেহের অতীত।
খাঁচার পাখির কণ্ঠে যে বাণী
সে তো কেবল খাঁচারি নয়,
তার মধ্যে গোপনে আছে সুদূর অগোচরের অরণ্য-মর্মর,
আছে করুণ বিস্মৃতি।
সামনে তাকিয়ে চোখের দেখা দেখি–
এ তো কেবলি দেখার জাল-বোনা নয়।–
বসুন্ধরা তাকিয়ে থাকেন নির্নিমেষে
দেশ-পারানো কোন্‌ দেশের দিকে,
দিগ্বলয়ের ইঙ্গিতলীন
কোন্‌ কল্পলোকের অদৃশ্য সংকেতে।
দীর্ঘপথ ভালোমন্দয় বিকীর্ণ,
রাত্রিদিনের যাত্রা দুঃখসুখের বন্ধুর পথে।
শুধু কেবল পথ চলাতেই কি এ পথের লক্ষ্য?
ভিড়ের কলরব পেরিয়ে আসছে গানের আহ্বান,
তার সত্য মিলবে কোন্‌খানে?
মাটির তলায় সুপ্ত আছে বীজ।
তাকে স্পর্শ করে চৈত্রের তাপ,
মাঘের হিম, শ্রাবণের বৃষ্টিধারা।
অন্ধকারে সে দেখছে অভাবিতের স্বপ্ন।
স্বপ্নেই কি তার শেষ?
উষার আলোয় তার ফুলের প্রকাশ;
আজ নেই, তাই বলে কি নেই কোনোদিনই?

আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে–
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে –
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার – ভাঙা কল্লোলে।
আসল হাসি, আসল কাঁদন
মুক্তি এলো, আসল বাঁধন,
মুখ ফুটে আজ বুক ফাটে মোর তিক্ত দুখের সুখ আসে।
ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে –
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আসল উদাস, শ্বসল হুতাশ
সৃষ্টি-ছাড়া বুক-ফাটা শ্বাস,
ফুললো সাগর দুললো আকাশ ছুটলো বাতাস,
গগন ফেটে চক্র ছোটে, পিণাক-পাণির শূল আসে!
ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে
চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে,
আজ তাই দেখি আর বক্ষে আমার লক্ষ বাগের ফুল হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ হাসল আগুন, শ্বসল ফাগুন,
মদন মারে খুন-মাখা তূণ
পলাশ অশোক শিমুল ঘায়েল
ফাগ লাগে ঐ দিক-বাসে
গো দিগ বালিকার পীতবাসে;
আজ রঙ্গন এলো রক্তপ্রাণের অঙ্গনে মোর চারপাশে
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!
আজ কপট কোপের তূণ ধরি,
ঐ আসল যত সুন্দরী,
কারুর পায়ে বুক ডলা খুন, কেউ বা আগুন,
কেউ মানিনী চোখের জলে বুক ভাসে!
তাদের প্রাণের ‘বুক-ফাটে-তাও-মুখ-ফোটে-না’ বাণীর বীণা মোর পাশে
ঐ তাদের কথা শোনাই তাদের
আমার চোখে জল আসে
আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে!
আজ আসল ঊষা, সন্ধ্যা, দুপুর,
আসল নিকট, আসল সুদূর
আসল বাধা-বন্ধ-হারা ছন্দ-মাতন
পাগলা-গাজন-উচ্ছ্বাসে!
ঐ আসল আশিন শিউলি শিথিল
হাসল শিশির দুবঘাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ জাগল সাগর, হাসল মরু
কাঁপল ভূধর, কানন তরু
বিশ্ব-ডুবান আসল তুফান, উছলে উজান
ভৈরবীদের গান ভাসে,
মোর ডাইনে শিশু সদ্যোজাত জরায়-মরা বামপাশে।
মন ছুটছে গো আজ বল্গাহারা অশ্ব যেন পাগলা সে।
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে!!

আমার মাঝে তোমার লীলা হবে

আমার মাঝে তোমার লীলা হবে,
তাই তো আমি এসেছি এই ভবে।
এই ঘরে সব খুলে যাবে দ্বার,
ঘুচে যাবে সকল অহংকার,
আনন্দময় তোমার এ সংসার
আমার কিছু আর বাকি না রবে।
মরে গিয়ে বাঁচব আমি, তবে
আমার মাঝে তোমার লীলা হবে।
সব বাসনা যাবে আমার থেমে
মিলে গিয়ে তোমারি এক প্রেমে,
দুঃখসুখের বিচিত্র জীবনে
তুমি ছাড়া আর কিছু না রবে।

একটি মোরগের কাহিনী

একটি মোরগ হঠাৎ আশ্রয় পেয়ে গেল
বিরাট প্রাসাদের ছোট্ট এক কোণে,
ভাঙা প্যাকিং বাক্সের গাদায়
আরো দু’তিনটি মুরগীর সঙ্গে।
আশ্রয় যদিও মিলল,
উপযুক্ত আহার মিলল না।
সুতীক্ষ্ণ চিৎকারে প্রতিবাদ জানিয়ে
গলা ফাটাল সেই মোরগ
ভোর থেকে সন্ধে পর্যন্ত-
তবুও সহানুভূতি জানাল না সেই বিরাট শক্ত ইমারত।
তারপর শুরু হল তাঁর আঁস্তাকুড়ে আনাগোনা;
আর্শ্চর্য! সেখানে প্রতিদিন মিলতে লাগল
ফেলে দেওয়া ভাত-রুটির চমৎকার প্রচুর খাবার!
তারপর এক সময় আঁস্তাকুড়েও এল অংশীদার-
ময়লা ছেঁড়া ন্যাকড়া পরা দু’তিনটে মানুষ;
কাজেই দুর্বলতার মোরগের খাবার গেল বন্ধ হয়ে।
খাবার! খাবার! খানিকটা খাবার!
অসহায় মোরগ খাবারের সন্ধানে
বার বার চেষ্টা ক’রল প্রাসাদে ঢুকতে,
প্রত্যেকবারই তাড়া খেল প্রচণ্ড।
ছোট্ট মোরগ ঘাড় উঁচু করে স্বপ্ন দেখে-
‘প্রাসাদের ভেতর রাশি রাশি খাবার’!
তারপর সত্যিই সে একদিন প্রাসাদে ঢুকতে পেল,
একেবারে সোজা চলে এল
ধব্‌ধবে সাদা দামী কাপড়ে ঢাকা খাবার টেবিলে ;
অবশ্য খাবার খেতে নয়
খাবার হিসেবে